Letest Update

হুয়াওয়ের উপর নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতি উভয় দেশের: চীন





হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে চীন। রয়টার্সের ভাষ্যমতে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের সাথে ব্যাবসায়িক আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় তাহলে মার্কিন সরকারকে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া এই ভুল পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে হবে। এবং হুয়াওয়েকে কালো তালিকা থেকে মুছে ফেলতে হবে।

হুয়াওয়ে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিকম পণ্য বিক্রেতা ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মোবাইল ফোন বিক্রেতা। গুগল ছাড়াও ব্রিটিশ কোম্পানি এআরএম যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে হুয়াওয়ের সাথে ব্যাবসা বন্ধ করছে । এআরএম(ARM) হুয়াওয়েকে মোবাইল ফোনের জন্য চিপ সরবরাহ করত।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাও ফ্যাং তার সাপ্তাহিক বিবৃতিতে জানায়, যদি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঠিক রাখতে হয় তবে তাদেরকে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আরো বলেন আলোচনা কেবল মাত্র পারষ্পরিক শ্রদ্ধা আর সমঝোতার ভিত্তিতেই চলতে পারে। তাই তিনি মার্কিন সরকার কে অবিলম্বে তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে আহবান জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন , চীন খুব ভালোভাবে ব্যাপার গুলোয় নজর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুয়াওয়েকে চীনা সরকারের জন্য কাজ করার দায়ে অভিযুক্ত করে। এছাড়াও হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তারা তথ্য পাচার ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করার অভিযোগ আনে । এবং এই সকল অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা হুয়াওয়েকে কালোতালিকা ভুক্ত করে। তবে হুয়াওইয়ে এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প সরকার পরবর্তীতে চাপের মুখে হুয়াওয়ের শাস্তি কিছুটা শিথিল করে বর্তমানে হুয়াওয়েকে ৩ মসের জন্য অস্থায়ী লাইসেন্স দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও সিএনবিসি কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, হুয়াওয়ে মিথ্যে বলছে । তারা অবশ্যই চীনের সরকারের সাথে কাজ করছে। তখন তিনি হুয়াওয়ের সিইওকে উদ্দেশ্যকরে বলেন , হুয়াওয়ের সিইও কেবল মাত্র আমেরিকান নাগরিকদের কাছে নয় পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছে সত্য লুকাচ্ছে । তিনি অন্যান্য আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দেন এবং বলেন হুয়াওয়ের সাথে ব্যাবসায় নিরাপত্তা ঝুকি রয়েছে। জাপানের কোম্পানি তোশিবা জানিয়েছে প্রাথমিক ভাবে বন্ধ করার পর তারা আবার হুয়াওয়ের জন্য কিছু চালান পুনরায় পাঠিয়েছে।

হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন জেংফাই চীনের একটি অর্থনীতি ভিত্তিক পত্রিকা গাইক্সিন কে চলমান পরিস্থিতির উপর একটি সাক্ষাতকার দেন । তিনি বলেন এআরএম কোম্পানির এই সিদ্ধান্ত তার কোম্পানির উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি আরো বলেন এআরএম কোম্পানির সাথে হুয়াওয়ের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ছিল কিন্তু চুক্তির মাঝ পথে তারা এমন সিদ্ধান্ত নেয় । তিনি আরো বলেন হুয়াওয়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছে।

মে মাসের ১০ তারিখের পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আর কোনো বাণিজ্যিক আলোচনা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। উক্ত আলোচনায় ট্রাম্প সরকার প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের চীনা পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে এবং বাকি চীনা পণ্যগুলো আমদানির ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে । চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তবে হুয়াওয়ের উপর নিষেধাজ্ঞার পর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন কি রূপ নেয় তা এখন দেখার অপেক্ষা।

No comments